ডেস্ক রিপোর্ট | শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | 25 বার পঠিত

সংগৃহীত ছবি
যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন পরিচালনা, শত্রুর অবস্থান শনাক্ত ও সামরিক যোগাযোগ সচল রাখতে নিজস্ব স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে রাশিয়া। ‘রাসভেত’ নামের এই প্রকল্পের মাধ্যমে মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের স্টারলিংকের বিকল্প তৈরি করতে চায় মস্কো।
আধুনিক যুদ্ধে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট এখন গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ। এই প্রযুক্তির সাহায্যে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরে অবস্থান করেও ড্রোন পরিচালনা, সামরিক অভিযান সমন্বয় এবং নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধেও এর গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে।
স্টারলিংকের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ
পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে থাকা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে উচ্চগতির ইন্টারনেট ও যোগাযোগসেবা দিয়ে ইউক্রেনের সামরিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করছে স্টারলিংক। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও যোগাযোগ সচল রাখা এবং সামরিক ইউনিটগুলোর মধ্যে সমন্বয় করতে এই ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।
যুদ্ধের শুরুর দিকে ইউক্রেন স্টারলিংক ব্যবহারের সুযোগ পেলেও রাশিয়া অননুমোদিতভাবে এই সেবা ব্যবহার করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্পেসএক্স রুশ বাহিনীর সেই প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেয়। এর পরপরই রাশিয়া প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা হারায় বলে পেন্টাগনের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে নিজস্ব স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ রাশিয়ার জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
২০৩৫ সালের মধ্যে ৯০০ স্যাটেলাইট স্থাপনের লক্ষ্য
প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে অন্তত ৯০০টি স্যাটেলাইট স্থাপন করা হবে। বর্তমানে রাসভেত নেটওয়ার্কে রয়েছে ৩১টি স্যাটেলাইট। এগুলো যুদ্ধের সম্মুখসারিতে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করলেও প্রতিদিন মাত্র কয়েক ঘণ্টা কার্যকর থাকে।
এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে আগামী বছরের মধ্যে স্যাটেলাইটের সংখ্যা বাড়িয়ে ২৯২টিতে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে মস্কো।
স্যাটেলাইটের সংখ্যা বাড়লে যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগের পরিসর ও কার্যকারিতা বাড়তে পারে। এতে স্টারলিংকের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি সামরিক অভিযান পরিচালনায় রাশিয়ার নিজস্ব সক্ষমতাও জোরদার হবে।
বাস্তবায়নে রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ
তবে নির্ধারিত সময়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, প্রয়োজনীয় স্যাটেলাইট নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপন করাই রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে ২০২৭ সালের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিণতি যা-ই হোক, ভবিষ্যতের যুদ্ধকৌশলে মহাকাশভিত্তিক প্রযুক্তির গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে। প্রচলিত অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন স্যাটেলাইট যোগাযোগও যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রাসভেত প্রকল্প সফল হলে রাশিয়ার সামরিক যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে স্টারলিংকের কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠতে হলে নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্যাটেলাইট কক্ষপথে স্থাপন এবং নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
তথ্যসূত্র: ইউএসএ টুডে ও ইউএ নিউজ।
Posted ৫:৫৬ পিএম | শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Dulal
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।